কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে উল্লেখিত প্রাচীন ভারতের বিবাহ পদ্ধতি আলোচনা কর

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র থেকে মৌর্য যুগের বিবাহ পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়৷ অর্থশাস্ত্র থেকে জানা যায় যে, স্ববর্ণ ও স্বজাতির মধ্যে বিবাহ প্রচলিত ছিল৷ মেয়েদের বিবাহের বয়স হিসাবে বাল্যবিবাহের কথা বলা হলেও, তিনি উল্লেখ করেছেন যে বয়ঃসন্ধিকালেও অনেক মেয়ের বিবাহ হত৷

অর্থশাস্ত্রে কৌটিল্য বিবাহের তিনটি উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন -

  • ১. গৃহস্থালির করনীয় যাগযোজ্ঞাদির মাধ্যমে ধর্ম সাধন৷
  • ২. বংশ বৃদ্ধি করা৷
  • ৩. রতি বা যৌন মিলনের মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করা৷
অর্থশাস্ত্রে বিবাহের পূর্বে ও পরে কয়েকটি বি়ধান পালনের উল্লেখ আছে৷ এক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, বিবাহের পূর্বে কঠোর সংযোমের মাধ্যমে কৌমার্য রক্ষা করতে হবে৷ তিনি সমসাময়িক সমাজে বাল্যবিবাহের উল্লেখ করে বলেছেন, এটি ছিল যৌবন প্রাপ্ত কন্যার কৌমার্য রক্ষার একমাত্র পথ৷


মৌর্য যুগে দুই ধরনের বিবাহের কথা কৌটিল্য উল্লেখ করেছেন, যথা-

  • ১. অনুলোম বিবাহ

অর্থাৎ উচ্চ বর্ণের পুরুষের সাথে নিম্ম বর্ণের নারীর বিবাহ৷

  • ২. প্রতিলোম বিবাহ

অর্থাৎ নিম্ম বর্ণের পুরুষের সাথে উচ্চ বর্ণের নারীর বিবাহ৷

এছাড়াও এই দুই বিবাহের ফলে উৎপন্ন সংকর জাতি গুলির মধ্যে বিবাহ হত৷


কৌটিল্য প্রাচীন ভারতের আট প্রকার বিবাহের উল্লেখ করেছেন, যথা- 

১. ব্রাহ্ম বিবাহ

এই প্রকার বিবাহ পদ্ধতিতে স্ববর্ণের পাত্রের সাথে যৌতুক সহকারে বিবাহ হত৷

২. দৈব বিবাহ

কোনো গৃহস্থ যজ্ঞের পুরোহিতকে তার প্রাপ্য অংশ দিয়ে কন্যাকে দান করতেন৷

৩. আর্য বিবাহ

এই বিবাহে যৌতুকের পরিবর্তে কন্যার মূল্য হিসাবে একটি গাভি ও ষন্ড দেওয়া হত৷

৪. প্রজাপত্য বিবাহ

এই বিবাহে পিতা যৌতুক না দিয়ে এবং কন্যার কোনো মূল্য দাবি না করে তাকে সম্প্রদান করত৷

৫. গান্ধর্ব বিবাহ

পাত্র পাত্রী পরস্পরের সম্মতি ক্রমে এই বিবাহ হত৷ তারা শপত বাক্য পাঠ করত৷ এই বিবাহ সাধারণত গোপনে হত৷

৬. আসুর বিবাহ

এই বিবাহে কন্যাকে ক্রয় করে বিবাহ করা হত৷

৭. রাক্ষস বিবাহ

এই বিবাহে কন্যাকে বল পূর্বক হরণ করে বিবাহ করা হত৷

৮. পৈশাচ বিবাহ

এই বিবাহে মত্তাবস্থায় কন্যাকে কৌমার্য হরণ করার পর বিবাহ করা হত৷

পরিশেষে বলা যায়, এই আট প্রকার বিবাহের মধ্যে প্রথম চার প্রকার বিবাহ ছিল ধর্ম সম্মত৷ গান্ধর্ব বিবাহ ব্রাহ্মণদের কাছে কতটা গ্রহনযোগ্য ছিল তা নিয়ে সংশয় আছে৷ শেষ তিন প্রকার বিবাহ পদ্ধতি ছিল দানব বা পেতের নাম থেকে উদ্ভুত৷ এগুলি ছিল সমাজে নিন্দনিয়৷
Next Post Previous Post