আপনার বয়স চেক করুন বয়স ক্যালকুলেটর দিয়ে! Click here. সময়ের হিসাব করুন Hours Calculator দিয়ে! Click here.

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কারন ও ফলাফল লেখো।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর

১১৭৬ বঙ্গাব্দ এবং ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে এক মহাদুর্ভিক্ষ ও মন্বন্তর ঘটে, যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এই মন্বন্তরের পিছনে বিভিন্ন কারণ ছিল এবং এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ১১৭৬ বঙ্গাব্দ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে


ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ

ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণগুলি হল নিম্নরূপ

চড়া হারে রাজস্ব আদায়

মুঘল ও নবাবি আমলে ভূমিরাজস্বের হার ছিল উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ। দেওয়ানি লাভের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লক্ষ্য হয়, যত বেশি সম্ভব রাজস্ব আদায় করা। কোম্পানির নিযুক্ত নায়েব-সুবা রেজা খাঁ ও সিতাব রায় প্রজাপীড়ন চালিয়ে রাজস্ব আদায় করেন। ফলে বিগত বছরের তুলনায় মন্বন্তরের বছরে রাজস্ব আদায় বেশি হয়।


অনাবৃষ্টি

বাংলার চাষবাস প্রকৃতিনির্ভর ছিল। ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে কম বৃষ্টির কারণে ধান নষ্ট হয়ে যায়। ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে অনাবৃষ্টির কারণে চাষবাস হয়নি। ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে কম বৃষ্টির জন্য অল্প ফসল হলেও কোম্পানি, রেজা খাঁ ও অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্য মজুত করে। ফলে খাদ্যসংকট দেখা দেয়।


রোগ-ব্যাধি

খাদ্যের অভাবে ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ গাছের পাতা, মরা পশুর মাংস এমনকি মানুষের মাংস খেয়ে ক্ষুধা নিবৃত্তি করে। পুকুরের জল দূষিত হয়ে যায়। ফলে কলেরা, গুটি বসন্ত রোগ মহামারির রূপ নেয় এবং গ্রামের পর গ্রাম মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।


ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ফলাফল

মৃত্যু

এই মন্বন্তরের ফলে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু ঘটে।


কৃষি-শিল্পে বিপর্যয়

মাঠের পর মাঠ চাষের কাজ বন্ধ হয়ে জমি পতিত হয়ে পড়ে, বনজঙ্গলে পরিণত হয়। বহু শিল্পী ও কারিগরের মৃত্যু হওয়ায় কুটিরশিল্পের বিপর্যয় ঘটে।


অর্থসংকট

কৃষি, শিল্প-বাণিজ্যে বিপর্যয় ঘটলে কোম্পানির রাজস্ব থেকে আয় কমে যায়। প্রবল অর্থসংকটের মুখে পড়ে কোম্পানি ব্রিটিশ সরকারের কাছে অর্থসাহায্য প্রার্থনা করে। এই সূত্রে রেগুলেটিং অ্যাক্টের মাধ্যমে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।


দ্বৈতশাসনের অবসান

এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে কোম্পানি দ্বৈত শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটায়। কোম্পানি এদেশের শাসন-দায়িত্ব নিজ হাতে গ্রহণ করে।


বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা আনন্দমঠ উপন্যাসে চিত্রিত এই করুণ ও মর্মস্পর্শী কাহিনি কারও মতে 'মানুষের সৃষ্ট', আবার কারও কারও মতে তা 'প্রাকৃতিক বিপর্যয়'। তবে এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

Next Post Previous Post