কোপারনিকাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।

পোল্যান্ডের বিজ্ঞানী জোহানেস কোপারনিকাস (১৪৭৩- ১৫৪৩ খ্রি.) 'আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক' নামে পরিচিত। পূর্বে ইউরোপে চার্চের সমর্থনপুষ্ট টলেমির জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক যে ভ্রান্ত মতবাদ প্রচলিত ছিল তাঁর মূলে কোপারনিকাস কুঠারাঘাত করেন।

কোপারনিকাস: আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক

নিকোলাস কোপারনিকাস

কোপারনিকাসের মতবাদ

  • টলেমির মতকে অস্বীকার: প্রাচীন গ্রিক জ্যেতির্বিদ টলেমি বলেছিলেন যে, বিশ্বব্রহ্মান্ডের কেন্দ্রে অবস্থান করছে পৃথিবী। কিন্তু কোপারনিকাস টলেমির মতবাদকে অস্বীকার করেন। 
  • সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ধারণা: কোপারনিকাস সর্বপ্রথম সৌরগজতের গঠন সংক্রান্ত সর্বাধিক সঠিক ধারণা দেন। তিনিই সর্বপ্রথম বলেন যে, বিশ্বব্রহ্মান্ডের কেন্দ্রে পৃথিবী অবস্থিত নয়, সূর্য এই কেন্দ্রে অবস্থান করছে অর্থাৎ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সূর্যকেন্দ্রিক। সূর্য স্থির রয়েছে এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহগুলি বিভিন্ন বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরছে।
  • গ্রহগুলির ক্রমিক অবস্থান: তিনি সূর্য থেকে একে একে বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি প্রভৃতি গ্রহগুলিকে ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে দেন। কোপারনিকাসের সৌরজগৎ সম্পর্কিত এই নতুন ধারণা 'কোপারনিকাসের বিপ্লব' নামে পরিচিত। অবশ্য তিনি যে বিভিন্ন গ্রহের ঘূর্ণনের বৃত্তাকার পথের কথা বলেছেন পরবর্তীকালে তা উপবৃত্তাকার বলে প্রমাণিত হয়েছে।


চার্চের প্রতিক্রিয়া

কোপারনিকাসের মতবাদ সমকালীন খ্রিস্টীয় চার্চের মতবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। এজন্য চার্চ কোপারনিকাসের মতবাদের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।


অন্যান্য প্রতিভা

কোপারনিকাস চিকিৎসাশাস্ত্র এবং অর্থনীতিতেও পণ্ডিত ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্য বিভিন্ন গ্রন্থে প্রকাশ করেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল-

  1. Commentoriolus
  2. Six Books on the Revolutions of the Celestial Spheres
  3. On the Revolution of spelestial Orbs প্রভৃতি।

বইগুলিতে আলোচিত কোপারনিকাসের মতবাদ ইউরোপের ভাবজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর বুনো, কেপলার প্রমুখ তাঁর মতবাদকে জনপ্রিয় করে তোলেন।

Previous Post