কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকি কে ছিলেন? নিজামুদ্দিন আউলিয়া কাকির সম্পর্কে কি বলেছিলেন?

বখতিয়ার কাকি মঈনুদ্দিন চিশতীর শিষ্য ছিলেন এবং ইলতুৎমিশের শাসনকালে 1221 খ্রিস্টাব্দে দিল্লীতে আসেন।

জন্ম

1186 খ্রিস্টাব্দ কাকি ফারগানায় জন্ম গ্রহণ করেন।

প্রধান শিষ্য

বাবা ফরিদ

উপাধি

বখতিয়ার অর্থাৎ ভাগ্যবন্ধু উপাধিটি মঈনুদ্দিন চিশতী দিয়েছিলেন।

বিশেষত্ব

  • (1) এনার সম্পর্কে বলা হয় যে ইনি অলৌকিক ভাবে প্রাপ্ত রুটির উপর নির্ভর করে জীবন যাপন করতেন। তিনি একবার অলৌকিক ভাবে মোঙ্গলদের আক্রমণ থেকে মুলতান শহরকে রক্ষ করেছিলেন।
  • (2) কাকি গান শুনতে শুনতে অজ্ঞান হয়ে যেতেন। 1235 খ্রিস্টাব্দে শেখ সিস্তানির খানকাতে আয়োজিত সঙ্গীত সমাতে এনার মৃত্যু হয়। দিল্লীর মেহরৌলিতে কাকিকে সমাহিত করা হয়।
  • (3) চিশতী সিলসিলাতে কাকির সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তিনি দিল্লীতে চিশতী সিলসিলাকে 'প্রধান সিলসিলা' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বর্ণনা

বখতিয়ার কাকি মঈনুদ্দিন চিশতীর শিষ্য ছিলেন এবং ইলতুৎমিশের শাসনকালে 1221 খ্রিস্টাব্দে দিল্লীতে আসেন। যদিও তাঁর খ্যাতি তাঁর আগমনের আগেই দিল্লী পৌঁছে গিয়েছিল। কাকির প্রতি ইলতুৎমিশের খুব সম্মান ছিল। একবার উলেমারা ইলতুৎমিশকে প্রস্তাব দেন যে হিন্দুদেরকে ইসলাম বা তরবারির মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া উচিৎ। কিন্তু ইলতুৎমিশ এই বলে উলেমাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন যে, "ভারত আরব নয়, এটিকে দার উল ইসলামে রূপান্তর করা কার্যত সম্ভব নয়।" কিন্তু তাঁকে উলেমাদের চাপে শেখ উল ইসলাম (সুলতানকে ধর্মীয় কাজে পরামর্শ দানকারী) এর পদ তৈরি করতে হয়েছিল। তিনি কাকিকে এই পদে নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু কাকি রাজি হয়নি। তাই শেখ নজমুদ্দিন সুগরা ওরফে শেখ নক্সবী (ইলতুৎমিশ এনাকে বাবা বলে ডাকতেন) এই পদে নিযুক্ত হন। আসলে কাকি আর সুগরার মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। উলেমা ও সোহরাবর্দী উভয়েই কাকির বিরোধিতা করেছিলেন। যখন কাকি আজমীর যাত্রা শুরু করেন তখন মঈনুদ্দিন চিশতী ও দিল্লিবাসীর অনুরোধে তিনি দিল্লীতে থেকে জান। অন্যথায় পুরো শহরবাসী দিল্লী ছেড়ে কাকিকে নিয়ে আজমীরে চলে যেত। বখতিয়ার কাকি ইলতুৎমিশকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, “হে দিল্লীর শাসক! গরীব, অসহায় জনতা এবং পরবেশের প্রতি উদার হও। সকল মানুষের প্রতি উদার হও এবং তাদের কল্যানের জন্য চেষ্টা করো। নিজের প্রজার প্রতি এইরকম ব্যাবহারকারীর প্রতি ইশ্বরের কৃপা থাকে, তার শত্রুও মিত্রতে পরিণত হয়।" যখন সুলতান ইলতুৎমিশ হাউজ-ই-শামসির নির্মাণ করেন তখন সেই স্থান ঠিক করে দিয়েছিলেন কাকি। নিজামুদ্দিন আউলিয়া কাকির সম্পর্কে বলেছিলেন যে, “তিনি ইশ্বর চিন্তায় এতটাই ডুবে গিয়েছিলেন যে তিনি তাঁর এক পুত্রের মৃত্যুর খবরও রাখেননি।” বাবা ফরিদ সম্ভবত ফবাইদস-সালিকিন নামে বখতিয়ার কাকির বাণীর একটি সংকলন প্রস্তুত করেছিলেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বিজয়ের পর বাবর কাকির দরগায় আসেন।

Next Post Previous Post