ভারতে সামাজিক ধর্ম সংস্কার আন্দোলন, ব্রাহ্ম আন্দোলন ও হিন্দু পুনরুজ্জীবন বলতে কি বোঝ?

ধর্ম সংস্কার : ব্রাহ্ম আন্দোলন ও হিন্দু পুনরুজ্জীবন

১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করেন রামমোহন রায়। মূলত সামাজিক সংস্কার করাই ঐ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল। ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে আত্মীয় সভা থেকে ব্রাহ্ম সমাজ গড়ে ওঠে। রামমোহনের পরবর্তীকালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্ম আন্দোলনকে সংগঠিত করেছিলেন। ১৮৬০-এর দশকে কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর উদ্যোগে কলকাতার শিক্ষিত সমাজের গণ্ডি পেরিয়ে ব্রাত্ম আন্দোলন বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত হয়েছিল। বৈষুবধর্মের জনপ্রিয় ঐতিহ্য এবং ব্রাহ্ম ধারণার মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছিলেন বিজয়কৃয়। কিন্তু আদতে সমাজের উচ্চবর্গের মধ্যেই ব্রাহ্ম আন্দোলন সীমিত ছিল। ফলে ধর্ম সম্পর্কে ব্রাহ্মদের উদার দৃষ্টিভঙ্গি উগ্র নব্যহিন্দু ধর্মপ্রচারের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।

বাংলায় ব্রাহ্মনেতা রাজনারায়ণ বসু ও নবগোপাল মিত্রের সংস্কার আন্দোলনে হিন্দু পুনরুজ্জীবনের ছাপ দেখা যায়। রাজনারায়ণ বসুর জাতীয় গৌরব সম্পাদনী সভা এবং নবগোপাল মিত্রের জাতীয় মেলা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল। জাতীয় মেলা পরে হিন্দুমেলা নামে পরিচিত হয়। হিন্দুধর্মের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে সকলকে উজ্জীবিত করাই ছিল হিন্দুমেলার উদ্দেশ্য।


হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলনের সঙ্গে রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের নাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। উনিশ শতকের চাকরিজীবী শহুরে শিক্ষিত মানুষের কাছে রামকৃষ্ণের এক বিশেষ আবেদন তৈরি হয়েছিল। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে রামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগো ধর্ম সম্মেলনে যোগদান করেন। সেখানে তিনি সহজভাবে ও ভাষায় ভারতীয় দর্শন ও হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করেন। বিবেকানন্দ নারীর স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন।

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী ও আর্য সমাজের অবদান কি ছিল?


১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী আর্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। বেদকে সমস্ত ধর্মগ্রন্থের মধ্যে চূড়ান্ত বলে মনে করতেন দয়ানন্দ । তার মতে বেদের মধ্যেই নাকি সমস্ত বিজ্ঞানের কথা নিহিত রয়েছে। পরবর্তীকালে হিন্দু ধর্মের মধ্যে যে সমস্ত আচার ও সংস্কার মিশে গিয়েছিল। সেগুলির সমালোচনা করেন দয়ানন্দ। মূর্তিপুজো, পুরোহিতদের প্রাধান্য ও বাল্যবিবাহের মতো বিষয়গুলি দয়ানন্দের সমালোচনার লক্ষ্য ছিল। পাশাপাশি বিধবা বিবাহ ও নারীশিক্ষার সমর্থক ছিলেন তিনি। পঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে আর্য সমাজ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু দয়ানন্দের মৃত্যুর পর আর্য সমাজ আন্দোলন উগ্র হিন্দু রূপ ধারণ করতে থাকে।

সংস্কার আন্দোলনগুলির চরিত্র ও সীমাবদ্ধতা কি ছিল?


উনিশ শতকের এইসব সামাজিক সংস্কারগুলি গোড়া থেকেই সংকীর্ণ সীমানায় আটকা পড়েছিল। ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে আর্থিক ও শিক্ষাগত সুযোগ সুবিধাগুলি মূলত উচ্চবর্গের ভদ্রলোক ব্যক্তিরাই পেয়েছিলেন।

এই ভদ্রলোকেরাই ব্রাত্ম আন্দোলনের মতো সংস্কার আন্দোলনগুলির পৃষ্ঠপোষণা করেছিলেন। কলকাতার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়লেও সমাজের সাধারণ জনগণের সঙ্গে ব্রাত্ম আন্দোলনের বিশেষ যোগাযোগ ছিল না। তাছাড়া সংস্কারকরাও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে বিশেষ ভাবিত ছিলেন না। মূলত ইংরেজি ও সংস্কৃত-ঘেঁষা বাংলা ভাষা ব্যবহার করতেন বাংলার সমাজ সংস্কারকরা। পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতেও প্রার্থনা সমাজের সামাজিক ভিত্তি শিক্ষিত ভদ্রলোক শ্রেণির মধ্যে আটকে ছিল। পাশাপাশি এই সংস্কার আন্দোলনগুলি জাতিভেদ নিয়ে বিশেষ সোচ্চার হয়নি। কারণ সংস্কারকদের অধিকাংশই উঁচু জাতির প্রতিনিধি ছিলেন।

উনিশ শতকের সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মনে করতেন যে, ধর্মশাস্ত্রে যে সব আচরণের কথা বলা আছে সেগুলি পালনীয়। তাঁরা মনে করতেন কিছু স্বার্থপর মানুষ নিজেদের স্বার্থে ধর্মশাস্ত্রগুলির অপব্যাখ্যা করে। দেশের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ সেসব শাস্ত্র কখনও পড়েনি। ফলে শাস্ত্রের নামে বিভিন্ন কুপ্রথার শিকার হতো তারা। এই মনোভাবের ফলে সমাজ সংস্কারকরা বিভিন্ন শাস্ত্রের সঠিক ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ নেন। সতীদাহ বন্ধের ও বিধবা বিবাহ চালুর পক্ষে আন্দোলনগুলি গোড়া থেকেই ছিল শাস্ত্র-নির্ভর। রামমোহন রায় বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে নজির দিয়ে সতীদাহের বিপক্ষে সওয়াল করেছিলেন। বিদ্যাসাগরও বিধবা বিবাহকে শাস্ত্রসম্মত বলে তুলে ধরেছিলেন। বিভিন্ন প্রথার নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার বদলে ঐ প্রথাগুলি শাস্ত্রসম্মত কি না, তা নিয়ে আলোচনায় বেশি জোর পড়েছিল।

আলোচ্য পাঠাংশ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

তত্ত্ববোধিনী সভা কে করে প্রতিষ্ঠা করেন? এই সভার মুখপত্র কী? তার সম্পাদক কে?

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন।
এই সভার মুখপত্র ছিল তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।

কে কাকে কেন ব্রহ্মানন্দ উপাধি দেন?

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কেশবচন্দ্র সেনকে ব্রহ্মানন্দ উপাধি দেন। কেশবচন্দ্র সেনের নিষ্ঠা, পাণ্ডিত্য ও নিরলস ব্রাহ্ম ধর্ম ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনের প্রচারের জন্য দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ‘ব্রহ্মানন্দ' উপাধি দেন।

কেশবচন্দ্র সেন প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি সভার নাম লেখ। তার উদ্যোগে—

  • ১। ব্রাহ্মবন্ধু সভা (১৮৬০ খ্রিঃ) 
  • ২। সঙ্গত সভা (১৮৬০ খ্রিঃ)
  • ৩। বামাবোধিনী (১৮৬৩ খ্রিঃ) 
  • ৪। ব্রাহ্মিকা সমাজ (১৮৬৫ খ্রিঃ)

তিন আইন কী ?

ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের ফলে সরকার ১৮৭২ খ্রিঃ বিখ্যাত তিন আইন করে। এই তিন আইন হল
  • ১। বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ ।
  • ২। বহু বিবাহ নিষিদ্ধ।
  • ৩। বিধবা-বিবাহ নিষিদ্ধ।

করে কারা ভারতীয় 'ব্রাহ্ম সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন ?

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে মত বিরোধের কারণে কেশবচন্দ্র সেন ও তার অনুগামীরা ব্রাহ্ম সমাজ থেকে বেরিয়ে এসে ১৮৬৬ খ্রিঃ ভারতবর্ষীয় 'ব্রাহ্ম সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।

কবে কারা সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন? 

কেশবচন্দ্র সেনের খ্রীষ্টপ্রীতি, গুরুবাদ ও ভক্তিবাদে আকর্ষণ, নারীদের উচ্চশিক্ষার বিরোধিতা, নিজ নাবালিকা কন্যার বিবাহ প্রভৃতি আদর্শগত মত পার্থক্যের কারণে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দ মোহন বসু, দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়, দুর্গামোহন দাস, প্রমুখ তরুণ ব্রাহ্মা কেশবচন্দ্র সেনের ব্রাহ্মসমাজ পরিত্যাগ করে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে সাধারণ 'ব্রাহ্ম সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।

কে কবে 'নববিধান ব্রাহ্ম সমাজ' প্রতিষ্ঠা করে?

ব্রাহ্ম সমাজ বিভক্ত হয়ে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে কেশবচন্দ্র সেন পরিচালিত ব্রাহ্ম সমাজ ১৮৭৮ সালে "নববিধান ব্রাহ্ম সমাজ" নামে পরিচিত হয়।

ভারতীয় জনজীবনে ব্রাহ্ম সমাজের অবদান কী? ভারতীয় জনজীবনে ব্রাহ্ম সমাজের অবদান অনস্বীকার্য :

  • ১। ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলন কুসংস্কারে নিবন্ধ হিন্দু সমাজের মূলে আঘাত হানে। 
  • ২। সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের দুর্দশা লাঘবে 'ব্রাহ্ম সমাজ' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
  • ৩। নারী শিক্ষা ও নারী স্বাধীনতা ও নারী প্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
  • ৪। ব্যক্তি স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য, মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলির গণতন্ত্রীকরণের কথা বলে ব্রাহ্ম সমাজ জনমনে নতুন চেতনার সঞ্চার করে।

কে কবে প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন?

ডঃ আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ ১৮৬৭ খ্রিঃ প্রথম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজ উন্নয়ন, নারী কল্যাণ, নারী শিক্ষা, সামাজিক কুপ্রথা দূরীকরণ ও হিন্দু ধর্মের আদর্শ প্রচার এর উদ্দেশ্য ছিল।

নব্য হিন্দু আন্দোলন কী?

খ্রীষ্টান মিশনারি ও ব্রাহ্ম সমাজের আক্রমণের হাত থেকে হিন্দুধর্ম ও সমাজকে রক্ষার উদ্দেশ্যে রামমোহন রায়ের সময় থেকেই হিন্দু সমাজে এক আন্দোলন গড়ে ওঠে যা নব্য হিন্দু আন্দোলন নামে পরিচিত।

বিবেকানন্দ রচিত কয়েকটি গ্রন্থের নাম লেখ। 

বিবেকানন্দ রচিত কয়েকটি গ্রন্থ হল—
‘জ্ঞানযোগ’, ‘রাজযোগ’, ‘পরিব্রাজক’, 'বর্তমান ভারত' প্রভৃতি। 

কে কবে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন? 

স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৭ খ্রিঃ ‘রামকৃষ্ণ মিশন' প্রতিষ্ঠা করেন।

কে কবে 'আর্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন?

হিন্দু ধর্মের উপর ব্রাহ্ম সমাজ, মুসলিম ও খ্রীষ্টান আক্রমণের প্রতিরোধ, হিন্দু ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সামাজিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী ১৮৭৫ খ্রিঃ ১০ই এপ্রিল বোম্বাই-এ 'আর্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।

শুদ্ধি আন্দোলন কী?

উনিশ শতকে আর্য সমাজ হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। আর্য সমাজ স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর নেতৃত্বে ধর্মত্যাগী ও ধর্মান্তরিত মুসলমানদের হিন্দুধর্মে প্রত্যাবর্তনের জন্য এবং অ-হিন্দুদের হিন্দু ধর্ম গ্রহণের জন্য শুদ্ধি অনুষ্ঠানের প্রবর্তন করেন। হিন্দু ধর্মের পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে তার এই প্রয়াস শুদ্ধি আন্দোলন নামে পরিচিত।

দয়ানন্দ সরস্বতী রচিত দুটি গ্রন্থের নাম লেখো। 

দয়ানন্দ সরস্বতী রচিত দুটি গ্রন্থের নাম হল – ‘সত্যার্থ প্রকাশ' ‘বেদ ভাষা’।

হিন্দু ধর্মের সংস্কারে আর্য সমাজের অবদান কী?

  • ১। আর্য সমাজের প্রচারের ফলে হিন্দুদের হীনমন্যতা দূর হয়।
  • ২। হিন্দু ধর্ম তার গৌরব ফিরে পায়।
  • ৩। হিন্দু সমাজের মধ্যে ঐক্য ফিরে আসে।
  • ৪। আর্য সমাজের উদ্যোগে হিন্দু ধর্ম আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

স্বামী দয়ানন্দের কয়েকজন অনুগামীর নাম লেখ।

স্বামী দয়ানন্দের কয়েকজন অনুগামীর নাম হল
লালা হংসরাজ, লালা লাজপৎ রায়, স্বামী শ্রদ্ধানন্দ।

 কারা কবে থিওসফিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন?

মাদাম ব্লাভাটস্কি ও কর্নেল এইচ. এস. ওলকট ১৮৭৫ খ্রিঃ আমেরিকায় থিওসফিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮৬ খ্রিঃ তারা মাদ্রাজের আধিয়রে 'থিওসফিক্যাল সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন। এর অন্যতম সদস্য হলেন অ্যানি বেসান্ত।

হিন্দু কলেজ কবে প্রতিষ্ঠা হয়? কলেজটি পরবর্তীকালে কী নামে পরিচিত হয়?

১৮১৭ খ্রিঃ ডেভিড হেয়ার, রাধাকান্ত দেব, রামমোহন রায় প্রমুখের উদ্যোগে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে ১৮৫৫ খ্রিঃ এই কলেজটি প্রেসিডেন্সি কলেজ নামে পরিচিত হয়।

পণ্ডিতা রমাবাঈ কে ছিলেন?

পণ্ডিতা রমাবাঈ (১৮৫৮-১৯২২) ছিলেন মহারাষ্ট্রের একজন বিখ্যাত মহিলা সমাজ সংস্কারক। নারীজাতির সমাজকে উন্নয়নের জন্য তিনি পুণাতে ‘অর্থ মহিলা সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্ত্রী শিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ, পণপ্রথা রদ প্রভৃতি বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন স্মরণীয় কেন?

মুসলিম মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ ছিলেন বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন। বিংশ শতকের প্রথম দিকে তিনি ভাগলপুরে একটি মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তিনি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' নামে বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
Next Post Previous Post